বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ!

​বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা তার নেতৃত্বাধীন সময়ে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। নিচে প্রধান কিছু অভিযোগের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:​

১. রিজার্ভ চুরির তথ্য গোপন রাখা

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পরও ২৪ দিন পর্যন্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়নি। তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর আবুল কাসেম বিষয়টি গভর্নর আতিউর রহমানকে জানালেও তিনি গোপন রাখার নির্দেশ দেন, এমনকি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শও অগ্রাহ্য করেন। ফরাসউদ্দিন কমিটি এই ঘটনায় গভর্নরের ভূমিকা ‘অসদাচরণ’ ও ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

২. ঋণখেলাপিদের জন্য শিথিল নীতিমালা

আতিউর রহমানের সময়ে খেলাপি ঋণের জন্য নীতিমালা শিথিল করা হয়, যার ফলে ঋণখেলাপিরা সুবিধা পায়। ২০১৫ সালে খেলাপি ঋণ নবায়নের জন্য ১ থেকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১২ বছরের জন্য ঋণ নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

৩. এননটেক্স গ্রুপের ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

Search