বিগত সরকারের আমলে পিএসসি’র দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের কেলেঙ্কারি: কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে উত্তাল ছাত্র-জনতা

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনের নেতৃত্বাধীন কমিশনকে ঘিরে ওঠা একের পর এক কেলেঙ্কারি, প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি আস্থা সংকটে পড়ে। তরুণ সমাজ, চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমাগত অসন্তোষ তৈরি হয়। ৬০০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহন করে পিএসসি’র চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন এবং মেম্বারদের সাথে ভাগবাটোয়ারা করে বিসিএস থেকে নন ক্যাডার নিয়োগ বন্ধ করতে।যার ফলশ্রুতিতে ৪৬ বিসিএস এ কোনো নন ক্যাডার পোস্ট দেওয়া হয়নি।

প্রশ্নপত্র ফাঁস: আস্থার চরম পতন

৪৬তম বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কমিশনের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে সিআইডি গ্রেফতার করে। তবুও পিএসসি কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তদন্তে প্রশ্নফাঁসের ‘প্রমাণ না পাওয়ার’ কথা বলে জনগণের বিস্ময় ও হতাশা বাড়ায়।

দীর্ঘসূত্রতা আর দুর্নীতির অভিযোগ

সোহরাব হোসাইনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের আমলে ৪১তম বিসিএসের মতো একটি নিয়োগ সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে ৫ বছরের বেশি, যা একটি রেকর্ড। নন-ক্যাডার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে চাকরিপ্রার্থীরা একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে।

পিএসসি: দলীয় কর্তার অভয়ারণ্য?

কমিশনের সদস্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সরাসরি সম্পর্কযুক্ত সাবেক আমলা, রাজনৈতিক উপকমিটির সদস্য, এমনকি বিতর্কিত ব্যক্তিও রয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে—সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান কি দলীয় কর্তার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে?

জনদাবি: অবিলম্বে কমিশন পুনর্গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে উঠে এসেছে একটাই দাবি—কমিশনের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনের অবিলম্বে অপসারণ এবং একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পিএসসি গঠন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ড. ইউনূসের দপ্তর জানিয়েছে, পিএসসির পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিবর্গকে কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও আভাস পাওয়া গেছে।

Search