১৬টা বছর বিচারবহির্ভূত গুম-হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক গ্রেপ্তার,নির্যাতন,টাকা লুট করে পাচার-এসবই ছিল মাফিয়া স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অর্জন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেছেন। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশসহ তাবৎ দুনিয়ার মানুষ বিশ্বাস করা শুরু করেছিল যে, শেখ হাসিনার পরাজয় সম্ভব নয়। এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর মঈন-ফখরুদ্দীন ও বিদেশিদের সাথে আঁতাত করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছিলেন ২০০৯ সালে।এদেশে এক-এগারো সৃষ্টি হওয়ার পেছনে কার ভূমিকা বেশি ছিল। ক্ষমতালোভী শেখ হাসিনা যখন হিসাব কষে দেখেছিলেন বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোট যতদিন একত্রে ভোট করবে ততদিন অন্য কোনো দলের জিতে আসা সম্ভব নয়, তখন তিনি নানা ষড়যন্ত্র আঁটা শুরু করেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর চারদলীয় জোট সরকারের শেষদিনে সারা দেশে লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ মেরে লাশের উপর নৃত্য করার পৈচাশিক দৃশ্য এদেশের মানুষ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দেখেছে। লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ মারার নির্দেশ কে দিয়েছিলেন, কারো অজানা নেই।

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যাওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার কাজ। এজন্য আওয়ামী সরকার একটা রোডম্যাপ আঁকে। এই রোডম্যাপ তৈরি হয় সরাসরি ভারতের তত্ত্বাবধানে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে যায় এক মর্মন্তÍুদ ঘটনা। এদিন ৫৭ জন সেনা অফিসারকে বিডিআরের সদর দপ্তর পিলখানায় ডেকে এনে হত্যা করা হয়।এই নারকীয় হত্যাকা- সরাসরি শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে হয়েছিল। সেইদিন ঢাকার সেনানিবাসে সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পিলখানা থেকে সাহায্যের আকুতি জানানো হয়েছিল; কিন্তু শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান শুধু সময় ক্ষেপণ করে করে ৫৭ জন সেনা অফিসারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা তার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য শত শত জুলুম-অন্যায়ের পথ অবলম্বন করেছিলেন। জুলুমের ধরনটা ছিল অত্যন্ত চরম। খুন, গুম, ফাঁসি, জেল ছিল জুলুমের প্রধান হাতিয়ার। শেখ হাসিনা ভালো করেই জানতেন, বিএনপিকে জামায়াত ছাড়া না করতে পারলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা পাকাপোক্ত হওয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি জামায়াত-শিবির নিধনে নেমে পড়েন। এজন্য তিনি ব্যবহার করেন যুদ্ধাপরাধী কার্ড। স্বাধীনতার পর যে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায় সেই ইস্যুকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোড়কে সাজিয়ে জামায়াত ও বিএনপির নিরপরাধ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়।

হেফাজতে ইসলামীর ১৩ দফার আন্দোলনকে শেখ হাসিনা রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে প্রতিহত করেছিলেন। ২০১৩ সালের ৫ মে কালো রাতে বাংলাদেশের মানুষ আরেকটি গণহত্যা দেখতে পেয়েছিল। সেদিন রাতে শত শত নিরাপরাধ আলেম ও মাদরাসার শিক্ষার্থী হত্যা করেছিল শেখ হাসিনার বাহিনী। 

শেখ হাসিনা হিটলার-মুসেলিনিকেও হার মানিয়েছেন। তিনি তার বিরোধীদের দমন করতে যেকোনো কঠিন পন্থা অবলম্বন করতে দ্বিধা করেননি। তিনি আয়না ঘরের মতো চরম মানবতাবিরোধী জুলুমের ঘর বানিয়েছিলেন। কত শত মানুষকে আয়না ঘরের অন্ধকার কুঠুরিতে তিনি রেখেছিলেন কেউ তা জানত না। এখন অনেকেই আয়না ঘর থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তাদে ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানোর বর্ণনা শুনলে গা শিউরে ওঠে। শেখ হাসিনার সেরা জুলুম ছিল বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া। ২০১৪ সাল, ২০১৮ সাল এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের প্রতিটি জাতীয় নির্বাচন ছিল ভোটারবিহীন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের কাউকে ভোট দিতে দেননি। বর্তমান প্রজন্মের কেউ জাতীয় নির্বাচনে নিজের ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারেনি। মাত্র ৫ থেকে ১০ পার্সেন্ট ভোটকে শেখ হাসিনার বংশবদ নির্বাচন কমিশন ৪০ থেকে ৭০ পার্সেন্ট পর্যন্ত দেখিয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে শেখ হাসিনা যুগের পর যুগ ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করে গেছেন।শেখ হাসিনা ভোটের অধিকারের সাথে মানুষের কথা বলার অধিকারটাও কেড়ে নিয়েছিলেন। নবী-রাসূলকে কেউ গালি দিলে এদেশে বিচার হয়নি কিন্তু শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই সাথে সাথে তার ওপর নেমে আসত অত্যাচারের নির্মম রোলার। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে বহু রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, না হয় দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূল্য চুকিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছিলেন শেখ হাসিনা,একতরফা বা জালিয়াতির নির্বাচন, বিরোধীদের ও বিরুদ্ধ মত দমন, অনিয়ম আর দুর্নীতি, আমলা আর প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে দলটির টিকে থাকা এই পতনের পেছনে মূল কয়েকটি কারণ হিসেবে উঠে আসছে।শেখ হাসিনার সরকার ও পুলিশ বাহিনী মিলে পুরো দেশকে একটা ‘মাফিয়া স্টেট’ তৈরি করেছিল।সবের জন্য সবসময়েই সরকারি প্রশাসন যন্ত্র, পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা বাহিনী এমনকি বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হয়েছে।

 শেখ হাসিনার আমলে (২০০৯ সালের পরবর্তী সময়ে) বাংলাদেশে অন্তত ৬০০ গুমের ঘটনা ঘটেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক।শেখ হাসিনার আমলে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর একের পর এক আটক, নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।আটক, নজরদারি, হয়রানির শিকার হন মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকেরাও। গণমাধ্যমকে চেপে ধরতে শেখ হাসিনার সরকার কঠোরতর আইন করে।

ক্ষমতায় আসার পর এবারই প্রথম এত গুরুতর আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে ব্যাপক রক্তপাতের পর সেটা এক দফা বা সরাসরি সরকারের পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।আন্দোলন দমনে কঠোর পথ বেছে নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি আন্দোলনকারীদের সরাসরি ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। পুলিশ নির্বিচার গুলি চালায়। নিহত হন কয়েক শ মানুষ। এরপর হাজার হাজার মানুষকে ফৌজদারি অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়।বেপরোয়াভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অ্যাকশন, গুলি চালানোয় পাঁচ সপ্তাহে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। পরিস্থিতি সামলাতে ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ জারি, সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে হয়েছে।

তবে শুধু কোটা সংস্কারের দাবি নয়, করোনা–পরবর্তী সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের কারণে ক্ষুব্ধ ছিলেন সাধারণ মানুষ। মূল্যস্ফীতি আকাশ ছুঁয়েছে। ব্যাপক ধস নেমেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও। ২০১৬ সালের পর বিদেশি ঋণ দ্বিগুণ হয়েছে।শেখ হাসিনার সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে চারপাশ থেকে এমন ভরাডুবি। এ ছাড়া কয়েক দশকের অর্থনৈতিক উল্লম্ফনের জেরে আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণেও মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গত তিন মেয়াদে এই দলের ছোট থেকে কেন্দ্রের বেশিরভাগ নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে।গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেগরিটি (জিএফআই) হিসাবে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সেই হিসাবে ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা।বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থে কানাডায় বাংলাদেশিদের পরিবাবের সদস্যদের নিয়ে ‘বেগমপাড়া’ তৈরি হওয়ার মতো খবর এসেছে। অনেক নেতা-মন্ত্রী-এমপি, সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী দেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম তৈরি করেছেন, বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অফিসে ঘুষ দেয়া যেন একটা স্বাভাবিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল।আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-মন্ত্রীর, সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের দেশে বিদেশে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ, বিনিয়োগ স্কিমে অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশে শত লাখ কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কিছুদিন আগেও শেখ হাসিনা নিজের মুখে বলেছেন, ‘আমার পিয়ন ৪শত কোটি টাকার মালিক।’ কত বড় লজ্জার কথা! একজন প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন তার পিয়ন শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তাহলে সহজেই অনুমান করা যায় অন্যরা কত হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সচিবালয়ের ড্রাইভার, পিয়ন হতে শুরু করে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত নেতাকর্মী, প্রশাসনের সবাইকে অন্যায়-জুলুম করে টাকা পয়সা কামাইয়ের রাস্তা দেখিয়ে শেখ হাসিনা তার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

বাংলাদেশের গত দুই বছর ধরে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ছুঁয়েছে। রাতারাতি ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে সব কিছুর ওপরে। মানুষের সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম রাতারাতি বেড়ে গেছে।সেই সঙ্গে র্রিজার্ভের ঘাটতি, দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ পাচার, ব্যাংকিংখাতে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দেশের গণমাধ্যমে।

আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদের সময় পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, টানেল, পায়রা বন্দর, পায়রা সেতু, রেল সংযোগের মতো বহু ব্যয়বহুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে। তাতে দক্ষিণবঙ্গের মতো অনেক স্থানে অর্থনৈতিক পরিবর্তনও এনেছে। কিন্তু সেই সাথে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে।সেই সাথে নেতাদের, সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সুযোগ- সুবিধা পাওয়া, দুর্নীতি-ঘুষ, ছোটখাটো ব্যবসায়ী- হকার থেকে শুরু করে সেবা নিতে যাওয়া প্রতিটি মানুষের ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে।

ব্যাঙ্কিংখাতে রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে সর্বশ্রান্ত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। সেসবের জন্যও অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।কিন্তু এগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি, কাউকে জবাবদিহি করতে হয়নি।

গত কয়েক বছরে ভারতের ওপর তাদের নির্ভরতা, যেসব চুক্তি করেছে, দেখা গেছে সেসব ভারতের পক্ষে যাচ্ছে। ঋণ বাড়ছে।শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতার জন্য ভারতের প্রতি নজিরবিহীনভাবে ঝুঁকে পড়েছিলেন। ভারত যখন দেখলো যে, শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতার জন্য সব কিছু করতে রাজি তখন ভারতও সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েছে। ভারত শেখ হাসিনাকে সব সময় যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় থাকার সকল সহযোগিতা, বুদ্ধি, পরামর্শ দিয়ে গেছে। হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার বিনিময়ে ভারত যা চেয়েছে তার চেয়েও বেশি পেয়েছে।
শেখ হাসিনার আমলে শিক্ষা ব্যবস্থারও বারোটা বেজেছে। নকল, অটোপাশ ইত্যাদির কারণে বর্তমান জেনারেশনের অনেকেরই শিক্ষাগত ভিত্তি খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাসিনা সরকার শিক্ষা কারিকুলামকে পুরোপুরি সেকুলার করেছে। পাঠ্যক্রমে ডারইউনের মতবাদ, অপসংস্কৃতি, অশ্লীলতা, যৌন শিক্ষা ইত্যাদি পরিকল্পিতভাবে ঢুকিয়ে দিয়ে বাংলাদেশি অধিকাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠির চেতনাকে বিনাশ করার খেলায় মেতে উঠেছিল হাসিনা সরকার। আওয়ামী সরকারের আমলে আলিয়া মাদ্রসাগুলো ইলম ও আমল শূন্য হয়েছে। মাদরাসা ও স্কুলের মধ্যে নামে মাত্র পার্থক্য ছিল। প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি অঙ্গনে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দিয়ে আর কারিকুলামে সেকুলার চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে পুরো জাতির মগজে পচন ধরেয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকেও ধ্বংস করেছিলেন শেখ হাসিনা। চরম দলীয় ক্যাডার আর অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে বিচারালয়কে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। দলকানা, চরম ব্যক্তিত্বহীন অবিবেচকরা দেশের হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট পরিচালনা করেছেন। এরা দেশের পুরো বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন। দেশের কোথায় কোনো বিরোধীদলীয় ব্যক্তি ন্যায়বিচার পায়নি। শেখ হাসিনা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য সব সময় বিচারালয়ের ওপর বন্দুক রেখে রুল জারি করিয়ে পুরো জাতিকে ধোকা দিয়েছেন। সর্বজন স্বীকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিজের ক্ষমতাকে আজীবন ধরে রাখার জন্য বিচারালয়ের মাধ্যমে মুছে ফেলেছেন।

Search